
সত্যের প্রতি অটল বিশ্বাস ও সৎ চরিত্রের ভিত্তিতে হোসেনপুর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি ও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ফিরিয়ে এনেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক কাজী নাহিদ ইভা। যোগদানের পর থেকে তার পরিশ্রম ও জনবান্ধব মনোভাব উপজেলা পরিষদের সব দপ্তরের কাজকর্মে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কাজী নাহিদ ইভার নেতৃত্বে হোসেনপুরে সরকারি সেবা আরও গতিশীল ও জনগণমুখী হয়েছে। জনভোগান্তি কমেছে, সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বপরায়ণতার চিত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা যে কোনো অনিয়ম বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। নাগরিকদের অভিযোগ তিনি দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। ফেসবুক, ফোনে বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষ যে কোনো সমস্যা জানালে তা সমাধানে তার তৎপরতা প্রশংসিত। সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বল মানুষের জন্য তিনি বিশেষ মনোযোগী।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নিয়মিত কাজ পরিদর্শন করেন তিনি। মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক জটিলতায় ছাড় নেই। উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্যবর্ধন, সেবা প্রদান, রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব লক্ষ্যণীয়। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও কলেজগুলোর কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি করেন।
তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তিনি তাদের জন্য আইডল হিসেবে পরিচিত। জন্মনিবন্ধন ও জরুরি সেবায় সরকারি ফি’র অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বন্ধ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তার উদ্যোগে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও অসাধারণ মানবিক ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কাজ করছেন। তার সততা ও আন্তরিকতা উপজেলা জনসাধারণকে মুগ্ধ করেছে।”
পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মানসুরুল হক রবিন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন মানবিক মানুষ। কাজ করতে তিনি পছন্দ করেন। যে কোন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ব্যাপার ভেবে সামনে এগিয়ে যান। কোন বাঁধাই তাকে দমাতে পারে নি। তার একটি জলন্ত উদাহারণ সদ্য সমাপ্ত হোসেনপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইমাম , মুয়াজ্জিন, খাদেম তিনটি পদে সচ্ছতার সাথে নিয়োগ পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মধ্যে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
হোসেনপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা:
কর্মকর্তা আনজুমান ইসলাম জানান, তিনি অফিসবান্ধব, জনবান্ধন, আন্তরিক মনোভাব নিয়ে প্রশাসনিক কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে থাকেন। উপজেলা পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহন করার পর থেকে তিনি তৃনমুল মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে সকল শ্রেনীর মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনে সমধানের চেষ্টা করেন।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এহছানুল হক বলেন, কাজী নাহিদ ইভার কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব মনোভাব প্রশাসনিক সেবা জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও ঢাকা জজকোর্ট সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মনিরুল হক রাজন বলেন, তিনি স্বচ্ছ ও জবাদিহিতামুলক যে কাজ করতে পছন্দ করেন আর সে কাজটিই সে করেন। উপজেলা প্রশাসনে অনেকটাই জবাদিহিতা ফিরে এসেছে, ধীরে ধীরে বাকি সবটুকুই চলে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবসময় চেষ্টা করি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে। হোসেনপুর উপজেলা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাব এবং দায়িত্ব পালনে স্থানীয় প্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতা চাই।”
উল্লেখ্য; তিনি ৩৫তম ব্যাচ (বিসিএস) উত্তীর্ণ হন এবং ২৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে হোসেনপুর উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন।
মন্তব্য করুন