
দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এলো ছুটির আনন্দবার্তা। আগামীকাল (১২ আগস্ট) বুধবার বন্ধ থাকছে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামী ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পবিত্র ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পালিত হওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটিতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি থাকবে।
আখেরি চাহার সোম্বা কী ও এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য
‘আখেরি চাহার সোম্বা’ একটি ফারসি বাক্যংশ। এর শব্দগত অর্থ হলো ‘আখেরি’ মানে শেষ, ‘চাহার’ মানে চার বা চতুর্থ, এবং ‘সোম্বা’ মানে বুধবার; অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবার।
ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যে এ দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একাদশ হিজরির শুরুতেই প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সফর মাসের শেষ দিকে, অর্থাৎ এই বুধবারে তিনি সাময়িকভাবে সুস্থতা বোধ করেন এবং গোসল করে মসজিদে নববীতে এসে সাহাবিদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন। মহানবীর (সা.) সুস্থতার খবরে মদিনার সাহাবিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এই খুশিতে সাহাবি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হযরত ওমর (রা.), হযরত ওসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.) সহ অনেকে সাধ্যমতো উট, দিনার ও খাদ্য সামগ্রী সদকা এবং দান-খয়রাত করেন।
যেভাবে পালিত হয় দিনটি
বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও দিনটিকে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে স্মরণ করেন। এই দিনটির বিশেষ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:
বিশেষ দোয়া ও জিকির: আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় নফল নামাজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মসজিদে ধর্মীয় আলোচনা: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে বাদ জোহর ও বাদ আসর মহানবীর (সা.) জীবনী ও দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দান-খয়রাত ও মিলাদ: মদিনার সাহাবিদের সুন্নাহ অনুসরণে অনেকেই এ দিনে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন ও দান-খয়রাত বাড়িয়া দেন।
শুকরিয়া আদায়, আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে শিক্ষার্থীরা পরিবার ও স্থানীয় সমাজের সাথে যুক্ত হয়ে দিনটি উদযাপন করবে।
মন্তব্য করুন