
মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখলেও আর্থিক সংকটে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ার গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও ডিগ্রি শাখায় ভর্তি হওয়া ৩০৩ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ব্যয় বহন করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশসহ ছাত্রদলের নেতাদের উদ্যোগে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাদশ শ্রেণির ২৫৫ জন এবং ডিগ্রি শাখার ৪৮ জন রয়েছেন। এর ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা বিনা ভর্তি ফিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অনেকের পরিবার কৃষিকাজ, দিনমজুরি কিংবা অন্যান্য সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো নিয়ে এসব পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। এমন বাস্তবতায় ভর্তি ফি বহনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি কমানোর একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করা হয়। ছাত্রদলের নেতারা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি গাবতলীতে অবস্থিত শহীদ জিয়া মডেল কলেজটির ভিত্তিপ্রস্তর ১৯৯৯ সালে স্থাপন করেন তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ছাত্রীদের কমনরুমসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষা সহায়তা প্রদানকালে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন কলেজটির উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ জানান, মাধ্যমিকের পর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা করছেন। সদ্য অনুমোদন পাওয়া ডিগ্রি শাখায়ও ৪৮ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ বলেন, গাবতলীর মাটিতে প্রিয় নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি আর পিছিয়ে থাকবে না। সবার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাবে। আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ব্যয় বহনের পাশাপাশি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে গাবতলীর আরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।
মন্তব্য করুন