
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আমির হামজা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার আল্লার্গা নুরুজ্জামান অডিটোরিয়াম হলে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান অতিথি মুফতি আমির হামজা বলেন, গত ১৫ বছরে দেশে যে ফ্যাসিস্ট পরিস্থিতি দেশবাসী দেখেছে, বর্তমানে তারই পুনরাবৃত্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের এড়িয়ে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের ডেকে নিয়ে একপেশে আলোচনা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আমির হামজার অভিযোগ, সরকারি দলের লোকজন বা নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কেউ যেন সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ না পান, সেই চক্রান্ত চলছে। এ ধরনের অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন,‘আপনারা কি আবার ৫ আগস্ট দেখতে চান? এমন করলে কিন্তু আগস্ট আবার আসবে। মানুষ এখন আর মান্ধাত্তা আমলের নেই, মানুষ এখন অনেক সচেতন।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানানোর কথা জানান তিনি।
দেশে চাঁদাবাজি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে দেশে ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসিত করা হলে দেশের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিগত দিনের মামলা ও হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, গত আড়াই বছরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কাউকে বিন্দুমাত্র মিথ্যা মামলা বা হয়রানি করা হয়নি। যারা অতীতে মামলা দিয়ে বাণিজ্য করেছে এবং জনগণের ওপর জুলুম-অত্যাচার চালিয়েছে, তারাই এখন নিজেদের করা অপরাধের পরিণতি ভোগ করা শুরু করেছে।
ধর্মীয় অনুভূতির কথা উল্লেখ করে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ টানেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যেভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাসুল (সা.) কে সাহায্য করেছিলেন এবং মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করেছিলেন, সত্যের পথে অবিচল থাকলে একদিন তাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিজয় অবধারিত।
দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— সাবেক কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি ও মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ারদার, জেলা সাহিত্য সম্পাদক ও ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. নুরুল আমিন জসিম, উপজেলা নায়েবে আমির আরজুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল্লাহ আল নোমান, আহসান হাবিব বুলবুল, সাবেক সভাপতি এনামুল হক এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী খাজা উদ্দিন প্রমুখ।
এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী, রোকন এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনকল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মন্তব্য করুন