
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের জের ধরে হাইওয়ে পুলিশের ওপর এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইন অমান্যকারীদের এই সংঘবদ্ধ হামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবল রক্তাক্ত হয়েছেন এবং ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের একটি সরকারি গাড়ি।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৯ জনকে গ্রেপ্তারের খবর জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে ও শৃঙ্খলা ফেরাতে গতকাল ৯ জুন নিমসার আমবাজার এলাকায় নিয়মিত অভিযানে নামে হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো ব্যস্ততম সড়কে সম্পূর্ণ আইন অমান্য করে উল্টোপথে আসছিল একটি অটোট্রলি। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা সেটিকে আটকে দিলে চালক ও তার স্থানীয় সমর্থকরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যায়।
১০০-১৫০ জনের অতর্কিত তাণ্ডব ও রক্তপাত: প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে চালকের পক্ষে স্থানীয় ও বাজার এলাকার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি উগ্র ও সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা এবং ইটপাটকেল নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা ইটের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত কনস্টেবল মো. ইউসুফ আলী এবং কনস্টেবল মো. রাব্বি ইসলাম গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। উন্মত্ত জনতা এ সময় পুলিশের একটি ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যানে নির্বিচারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সেটির কাচ ও বডি চুরমার করে দেয়, যার মাধ্যমে সরকারি সম্পদের বিপুল ক্ষতিসাধন করা হয়।
সিসিটিভি ও প্রযুক্তির জালে ধরা ১৯ হামলাকারী: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন দুঃসাহসিক হামলার পর পুরো জেলা পুলিশ নড়েচড়ে বসে। জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের কঠোর নির্দেশনায় অপরাধীদের ধরতে রাতেই মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশের একাধিক চৌকস টিম। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির (আইটি) সহায়তায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলাকারীদের একে একে শনাক্ত করা হয়। এরপর জেলার বিভিন্ন গোপন আস্তানায় রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতাসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি ও বর্তমান পরিস্থিতি: সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, “সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের অপরাধে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মহাসড়কে কোনো ধরনের অবৈধ যান ও উল্টোপথে চলাচল বরদাশত করা হবে না। একই সাথে এই হামলায় জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার পর নিমসার আমবাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য করুন