
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় আবারও স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শফি আলম (৩০) নামে এক স্থানীয় যুবকের ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘুমধুম সীমান্ত সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কাশেম রাজার ঢালার মুখ সংলগ্ন একটি কলা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শফি আলম ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী ওই কলা বাগানের ভেতরের চলাচল পথে হাঁটার সময় শফি আলম স্থল মাইনের ওপর পড়ে যান। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে কাছাকাছি একটি বিজিবি বিওপির নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
শ্রমিকরা দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে আহত শফি আলমকে সীমান্ত সড়কে নিয়ে আসেন। পরে সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে করে তাকে বাইশফাঁড়ী প্রধান সড়কে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে একজন স্থানীয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। গত ৪ মে একই এলাকায় পৃথক দুটি বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন