
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে সালিশ-বৈঠকের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে ইসমাইল প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কালো জাদুর মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রায় এক সপ্তাহ আগে জানাজানি হলে ওই ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য গ্রামবাসী সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই বৈঠক চলাকালে মাহি হোসেন নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে ধাওয়া করে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর মাহির নানা আনছার আলীর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে খলিয়ানে স্তূপ করে রাখা কয়েক বিঘা জমির খড়ের পালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
হামলা ও ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে আনছার আলীর মেয়ে আফরোজা বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকালে মেকেল নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন মুর্শিদা বেগমকে তাঁর বাড়িতে মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণুপুর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদমদীঘি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এন্তেজারুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন