
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিদ্যমান পাঁচটি আইনের কোথাও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত রাখা হয়নি। ফলে এ নিয়ে প্রার্থী বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলর—সব ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি একইভাবে প্রযোজ্য।
তবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের একটি নির্ধারিত শর্ত রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থীকে ভোটার হওয়ার পাশাপাশি কমপক্ষে ২৫ বছর বয়সী হতে হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধান বা আইনে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, এমপি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও এমন কোনো শিক্ষাগত শর্তের মুখোমুখি হতে হয়নি।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল নয়। একজন ব্যক্তি প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও স্বশিক্ষিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ কারণেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রার্থী হওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়নি।
মন্তব্য করুন