
বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী সংকটের ভার বছরের পর বছর ধরে বহন করে আসছে কক্সবাজার। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারের অনেক সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—স্থানীয় জনগণের কষ্ট ও চাহিদার দিকে কি যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে?
কক্সবাজারের অনেক বাসিন্দার দাবি, তারা কর্মসংস্থান সংকট, দ্রব্যমূল্যের চাপ, মৎস্যসম্পদের সংকট, পরিবেশগত ক্ষতি এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েও প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ায় অনেকের মনে তুলনামূলক বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “আমরা আমাদের দেশের নাগরিক, কিন্তু অনেক সময় মনে হয় আমাদের কষ্টের কথা কেউ শুনতে চায় না।” এই অনুভূতি থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জনপরিসরে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠে আসছে।
তবে বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত অধিকাংশ সহায়তা আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিলের মাধ্যমে আসে, যা শরণার্থী ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা একটাই—মানবিক দায়িত্ব পালন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্থানীয় মানুষের ন্যায্য অধিকার, উন্নয়ন এবং জীবনমানের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হোক।
কক্সবাজারের মানুষের প্রশ্ন:
“অতিথিকে আশ্রয় দেওয়া আমাদের মানবিকতা, কিন্তু ঘরের মানুষের স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতিও কি সমান নজর দেওয়া হবে না?”
মন্তব্য করুন