
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই প্রশাসনিক দক্ষতা ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে ভূমি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পৌরসভা প্রশাসক মোহসী মাসনাদ। তার উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রমে গতি বেড়েছে, কমেছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
জানা যায়, বর্তমানে সরকারি নির্ধারিত খরচেই নামজারি সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং মাত্র ১২থেকে ১৫দিনের মধ্যেই অধিকাংশ আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ভূমি সংক্রান্ত মিসকেসগুলোও দ্রুত শুনানির মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের (ভুমি সংক্রান্ত) জট একেবারেই কমে এসেছে।
উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, আগের তুলনায় এখন অনেক সহজে এবং হয়রানি ছাড়াই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সিদলা গ্রামের সুমন মিয়া, পুমদীর গোলাপ মিয়া ও হলিমার খাইরুল ইসলাম বলেন, কাগজপত্র ঠিক ঠাক থাকলে এখন আর ভোগান্তি হয় না, অল্প সময়েই নামজারি হাতে পাচ্ছি।
জানা যায়— শুধু ভূমি সেবায় নয়, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বালু উত্তোলন, মাদক, ভোক্তা অধিকার, বাজার মনিটরিং এবং বৈশিক জ্বালানী চাপে পেট্রোল পাম্প গুলোতে অভিযান চালিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাত দিন পরিশ্রম করে গেছেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ট্রাক্টর জব্দ, অর্থদণ্ড, মামলা দায়েরের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদেরকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রলির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাদকবিরোধী অভিযানে তার অগ্রণী ভূমিকার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি আতঙ্কের এক নাম হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও তিনি সাফল্যের সঙ্গে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন।
হোসেনপুরে এমন ভূমি সেবায় স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল:
হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, এসিল্যান্ড একজন সৎ, যোগ্য ও কর্মদক্ষ কর্মকর্তা। তিনি হোসেনপুরে যোগদান করার পর থেকে ভূমি সেবার মান উন্নয়ন হয়েছে, ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। এমন কর্মদক্ষ নিষ্ঠাবান কর্মজীবী কর্তা প্রতিটি অফিসে থাকলে সে উপজেলা এগিয়ে যেতে বেশি দিন লাগবে না।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মোহসী মাসনাদ বলেন— “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় আমি চাই, হোসেনপুরের মানুষ যেন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছ ও হয়রানি মুক্ত সেবা পায়। সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। ভূমি সংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।”
মন্তব্য করুন