
পটুয়াখালীর মহিপুর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গত এক সপ্তাহে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। গত ৯ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত পরিচালিত ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে মোট ৪ কেজি ৪০ গ্রাম গাঁজাসহ সাতজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক বিক্রির নগদ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের শুরুতে ৯ জুন, ২০২৬ তারিখে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মহিপুর টিএন্ডটি অফিসের সামনে থেকে মাদক বিক্রয়কালে মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদার (৫২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ পারভীন বেগমকে (৪২) আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ১২ জুন, ২০২৬ বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ নয়ামিশ্রিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ১ কেজি ৫৪০ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ হারুন ঘরামী (৩০), মোসাঃ হামিদা বেগম (৪০) ও মোসাঃ পারুল বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় মোঃ আলী হোসেন ঘরামী (৪৫) ও মোঃ আমির হোসেন (৪০) নামে দুইজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সবশেষ ১৪ জুন, ২০২৬ ভোরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মহিপুর থানাধীন লতাচাপলীর ০৭নং ওয়ার্ডস্থ তাজেপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ১ কেজি গাঁজাসহ মোঃ রুবেল হাওলাদার (৩২) ও মোঃ বাবুল মৃধাকে (৪৯) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। যারা অভিযানে পালিয়ে গেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান চললে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মাঠপর্যায়ের খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি মাদকের নেপথ্যের বড় ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। এবং সমুদ্র ও স্থলপথে কঠোর নজরদারি সহ মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
মন্তব্য করুন