
নানা বাধা-বিপত্তি, অনিশ্চয়তা ও শেষ মুহূর্তের নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। রোববার (৯ আগস্ট) ঐতিহাসিক রাজার মাঠে বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের অংশগ্রহণে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী পোশাকের বর্ণিল উপস্থিতি, ম্রো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্লুং বাঁশির সুর, প্রতিবাদী স্লোগান ও বক্তাদের বক্তব্যে মুখর হয়ে ওঠে রাজার মাঠ।
আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে প্রথমে অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কেএসআই মিলনায়তন। সেখানে অনুষ্ঠানের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়। এরপর টাউন হল ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া গেলেও অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে সেটিও বাতিল করা হয়।
এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কোনো অনুমতির অপেক্ষা না করে ঐতিহাসিক রাজার মাঠে অনুষ্ঠান আয়োজন করেন আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, একটি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও অধিকারভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন বারবার বাধা সৃষ্টি করা হবে। তাঁরা বলেন, নানা প্রতিকূলতা থাকলেও নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ থেকে মানুষকে বিরত রাখা যাবে না।
এদিকে অনুষ্ঠান চলাকালে রাজার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন আয়োজকেরা। বিষয়টি নিয়েও অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও অনুষ্ঠানে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের উপস্থিতি, প্লুং বাঁশির সুর ও অধিকার আদায়ের দাবিতে দেওয়া স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাধা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলন থেমে থাকবে না। তাঁরা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও জাতিসত্তাগুলোর অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বান্দরবান সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ক্য সা মং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াই চ প্রু মাস্টার।
লেখক ও চলচ্চিত্রকার ডা. মং ঊষা থোয়াইয় সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেন রুং ম্রো, আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক কৃপা ত্রিপুরা, রিপন চক্রবর্তী, জিরকুম সাহু ও উছোমং মারমা।
মন্তব্য করুন