
গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ওপর বিচারকের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিচারকাজ বর্জন করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিচারক সুজন মিয়ার অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে জেলা বার ভবনের সামনে আইনজীবীরা সমবেত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বার ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় বিচারক সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে একটি পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সাবিহা সুলতানা নামে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হন। আইনজীবীদের অভিযোগ, এ সময় তাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে আইনজীবী নেতারা বলেন, প্রকাশ্য আদালতে একজন নারী আইনজীবীর ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও নজিরবিহীন। তারা আদালতে আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিচারকের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও বিচারকাজ বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ঘটনার পর গোপালগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিচারক সুজন মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালত সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সুজন মিয়ার বিচারিক (আমলি) ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন