
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শরীর জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাঁচার লড়াই থেমে গেছে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মাত্র তিন মাস বয়সেই না-ফেরার দেশে চলে গেছে দুই বোন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে দুই শিশুকে একই কবরে দাফন করা হয়। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দুই শিশুর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তাদের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে দুই শিশুর শরীর নীল হয়ে যায়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বুধবার তাদের আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় দুই বোন।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান জানান, হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড পূর্বের চিকিৎসার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানিয়েছিল, দুই শিশুর হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধমনী ছিল না। ফলে জয়নব কিছুটা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারলেও উম্মে কুলসুমের শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, শিশু দুটির চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
জন্মের পর শিশু দুটির বিরল শারীরিক অবস্থার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সরকারের নজরে আসে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সরকারের ব্যবস্থাপনায় সোমবার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় দুই বোন।
একই সঙ্গে পৃথিবীর আলো দেখা দুই বোনের শেষ বিদায়ও হলো একসঙ্গে। মাত্র তিন মাসের জীবনে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে। তাদের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মন্তব্য করুন