
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। মশার উৎপাত বাড়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস সালাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মশাবাহিত রোগ নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলাতেও অনেক শিক্ষার্থী মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা ও বিশ্রাম নিচ্ছেন। আবাসিক হলগুলোর আশপাশের ড্রেনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও স্থির পানি জমে রয়েছে। পাশাপাশি হলসংলগ্ন খেলার মাঠের পাশেও দেখা গেছে ময়লার স্তূপ। এসব স্থির পানি ও ময়লার স্তূপে মশার প্রজনন বাড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেট, হল চত্বর, সেন্ট্রাল ফিল্ডসহ বিভিন্ন স্থানেও মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় অবস্থান ও চলাচল করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে মশানিরোধক ওষুধ ছিটালেও মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তাদের দাবি, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ময়লার স্তূপ দ্রুত সরানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের পরিচালক নিজামুল হক বলেন, “আমরা ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে প্রেসক্রিপশন নিয়েছি। আগামী পরশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রক্টর স্যারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এ ছাড়া পৌরসভাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফগিং স্প্রে করবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ বলেন, “ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তার অসুস্থতার বিষয়টি আমাকে জানানো হলে আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই শিক্ষার্থীকে তার নিজ বাসা যশোরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “মশা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মশা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, যাতে মশার লার্ভা ধ্বংসসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণকারী শিক্ষার্থীদের মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন