
গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার (Odhikar)।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস (AFAD) ও অধিকারের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘International Day of the Victims of Enforced Disappearances’ উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আগামী ৩০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হবে। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ’ গৃহীত হয়, যা ২০১০ সাল থেকে কার্যকর হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্তব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে না করে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে করার বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত আইনে তদন্তের বিষয়ে এমন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা যায়।
তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্ত অন্য কোনো বাহিনীর কাছে দেওয়া হলেও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে। কারণ অতীতে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আলোচনা সভায় আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিধান গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ দায়েরে নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন।
অধিকারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়।
প্রথমত, গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দিতে হবে এবং তা আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, যেসব গুমের শিকার ব্যক্তি এখনো ফিরে আসেননি, তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানরা যাতে নিখোঁজ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি সুবিধা পান, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, গুমের পর ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, গুমের শিকার আবুল কাউয়ুম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সংসদ সদস্য আবুল্লাহ আল আমিন এবং অধিকার-এর পরিচালক এ এস এম নাসিরুদ্দিন এলানসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন