
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় প্রশাসনের কাজ বন্ধের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। কাজ বন্ধ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পরে সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে গিয়েও কাজ বন্ধ করতে পারেননি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ঠিকাদার পুনরায় মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন। তবে সেখানে উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থীর বাধার মুখে তারা কাজ বন্ধ করতে পারেননি। এ সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেও কাজ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাঠে সংস্কারকাজ চলমান ছিল।
ঘটনার বিষয়ে সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, “আজ সকালে পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে উপাচার্য মহোদয় আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে হবে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় নামাজ শেষে বাকি কথা হবে বলে আমি চলে আসি।”
কাজ চলমান থাকার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “মাঠের এই সংস্কারকাজটি বহুল প্রতীক্ষিত। আমরাও চাই কাজ হোক এবং শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জায়গা পাক। তবে কোনো ভালো কাজ আমরা দুর্নাম নিয়ে শেষ করতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিদ্রুত নিয়মবহির্ভূতভাবে চলমান কাজ বন্ধ করবে এবং তদন্ত শেষে সঠিক নিয়মে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার জন্য উদ্যোগ নেবে।”
প্রশাসনের কাজ বন্ধের নির্দেশ সম্পর্কে অবগত না থাকার দাবি করে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, “কাজ বন্ধ করার জন্য প্রশাসন কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, এমন কিছু আমি জানতাম না। আমি প্রতিদিনের মতোই সকালে এসে কাজ শুরু করেছি।”
অন্যদিকে, কাজ বন্ধে বাধা দেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চললেও মাঠ সংস্কারের কাজ বন্ধ রাখা উচিত নয়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, “আমাদের চাওয়া হলো, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু তদন্ত হোক। পাশাপাশি মাঠের সংস্কারকাজও চলমান থাকুক।”
হলের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সদরুল আমিন বলেন, “তদন্ত চলমান থাকুক এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক। ঠিকাদার দোষী হলে তার লাইসেন্স বাতিল হোক, এতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কাজ চলতে থাকুক। মাঠের কাজ বন্ধ করে কারও কোনো লাভ হবে না।”
এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি অমিত কুমার বণিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানি। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করার কারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো অভিযোগ বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে সেটি সংশোধন করা হোক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের একটি কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন