
নওগাঁ জেলা পুলিশের দীর্ঘ কয়েক মাসের ধারাবাহিক অভিযান, তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভয়ংকর আন্তজেলা সাইকো সিরিয়াল অপরাধী ও হত্যাকারী গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে গাজীপুর থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মে ও জুন মাসে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট, বদলগাছি ও পত্নীতলা থানার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
অজ্ঞাতপরিচয় ওই সাইকো অপরাধী বৈশাখী কায়দায় নারী ভুক্তভোগীদের ওপর বাঁশ ও ধাতব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করত। এসব ঘটনায় ৮ থেকে ৯ জন নারী গুরুতর আহত হন এবং একজন নিহত হন।
হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামালও চুরি করত।
এদিকে, একই ধরনের অপরাধ দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও সংঘটিত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
সেখানে কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি দুই নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এসব ঘটনার সঙ্গেও গোলাম মোর্শেদের সম্পৃক্ততার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একদল চৌকস কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তজেলা সাইকো অপরাধী গোলাম মোর্শেদকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে। পুলিশের মতে, এই গ্রেপ্তার ন্যায়বিচারের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে এবং জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য করুন