
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভুল চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগের পর মহিষকুণ্ডি বাজারে অবস্থিত তানিম প্রাইভেট হাসপাতালের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন পোর্টালে তানিম প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশিত হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হাসপাতালটি সরেজমিন পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা প্রদানের পরিবেশ, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, আয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি পাওয়া যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের শয্যার তুলনায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা এবং ১০ শয্যার ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত স্পেস না থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
এ অবস্থায় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তানিম প্রাইভেট হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট তানিম প্রাইভেট হাসপাতালে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করে জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। তবে ওই ঘটনায় ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানিম প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও আলোচনা-সমালোচনা ছিল। হাসপাতালটির কার্যক্রমে অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা থাকলে তা তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের নির্দেশের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত না করে কোনো প্রতিষ্ঠান যেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা না দেয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
তবে তানিম প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
মন্তব্য করুন