
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার কাঁধে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সফল দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। জবাবে খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম এর আগে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরও আগে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, অপারেশন, পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং নৌ সদর দপ্তরের পরিচালক (নৌ অপারেশনস) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভের পর তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ওমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও সামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন