
তাল গাছ। এটি শুধু ফলজ গাছই নয়। পরিবেশবিদদের মতে গাছটি বজ্রপাত প্রতিরোধে সাহায়ক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মত বগুড়ার ধুনটেও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন প্রজাতীর বৃক্ষের পাশাপাশি তালবীজ রোপণ অব্যহত রাখিয়াছে।
অনেক সময় বৃক্ষ ও বীজ রোপণে দেশ প্রেমে জাগ্রত হয়ে মানবিক তাগিদে সমাজের বিশিষ্টজনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রায় এলাকাতে তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এ সকল রোপণকৃত বীজ অঙ্কুর পেরিয়ে পাতা ছড়িয়ে প্রসারিত হওয়া শুরু করেছে। তার মধ্যে উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের চান্দিয়ার গ্রাম ও চিকাশী ইউনিয়নের ছোনপঁচা গ্রাম অন্যতম।
সম্প্রতি দেখা যায় চান্দিয়ার গ্রাম ও ছোনপঁচা এলাকার প্রধান সড়কের দুপাশে সেচ্ছাসেবীদের লাগানো বীজ থেকে গড়ে ওঠা তালগাছ গুলো অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কেটে ও বিশেষ কৌশলে মেরে ফেলে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছে।
যা মানবিক হৃদয়ে রক্ত খরনের সমান। যে সমাজ ও সমাজেরর মানুষের জন্য বৃক্ষ রোপণ করা হয়, সেই সমাজই যখন দুর্বৃত্তরূপে হানা দেয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকরী গাছের উপর। কারা হত্যা করেছে তাল গাছ গুলো?
অন্ধ সমাজের বন্ধ চোখে দেখার যেন কেউ নেই। শুধু কি সেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব এই পরিবেশ রক্ষা করার? সমাজ ও সমাজের মানুষের কি কোন দায় নেই? এমটাই প্রশ্ন ধুনট উপজেলার সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ মানবিক মানুষের বুকে, মুখে ও অন্তরে।
আমরা ধুনটবাসী ফাউন্ডেশন ও রাজফুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে বছর বছর তাল বীজ রোপণ করে আসছে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে আরো অনেক সেচ্ছাসেবী সংগঠন।
মানবিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা ধুনটবাসী ফাউন্ডেশনের সভাপতি আঁখিনূর জামান বকুল বলেন- আমরা ধুনট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তালবীজ রোপণ করেছি।
সময়ের ব্যবধানে সেই বীজ থেকে কিছু কিছু স্থানে তালগাছে রূপান্তর হয়ে মাথা চাঁড়া দিয়ে ডালপালা ছড়িয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কে বা কারা তালগাছ গুলো বিভিন্ন কৌশলে মেরে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারের জন্য উপযোগী করছে।
এটি স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণে মতো।
বৃক্ষপ্রেমী ও রাজফুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নাবিল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন- আমরা দীর্ঘদিন থেকে দেশ, সমাজ ও সমাজের মানুষের উপকারের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ ও বীজ রোপণ করে আসছি।
যে সমাজ ও সমাজের মানুষের জন্য বৃক্ষ রোপন করা, সেই সমাজের মানুষ গুলো যখন দুর্বৃত্তেরূপ নিয়ে গাছ গুলো আগুনে পুড়িয়ে ও বিভিন্ন কৌশলে মেরে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে এর চেয়ে দুঃখ আর কি হতে পারে? আমাদের আরো সচেতনতা বাড়ানো উচিত। মানুষ সচেতন হতে পারেনা এটা ভূল ধারনা তবে আমরা সচেতন করতে পারিনা এইটাই আমাদের ব্যর্থতা।
এ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন- বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে এমনটা হওয়ার কথা নয়। প্রশাসনিক ও স্থানীয় ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন