
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নে ‘কর্তাম বন্ধন টাওয়ার’ নামের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে আব্দুল করিম নামের এক সাবেক সেনা সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুল করিম গুণবতী ইউনিয়নের রাজবল্লভপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য।
আজ (মঙ্গলবার) গুণবতী ইউনিয়নের রাজবল্লভপুর গ্রামে অবস্থিত ওই ভবনে নিহতের আপন ভাইয়ের একটি ফাঁকা বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কর্তাম বন্ধন টাওয়ারের ওই ফ্ল্যাটটি মূলত আব্দুল করিমের ভাইয়ের, যা দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে ছিল। আজ দিনের কোনো এক সময়ে আব্দুল করিম ওই ফাঁকা বাসায় ঢুকে ভেতরে গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে খবর দেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে নিহতের অতীত জীবনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। ২০০১ সালে আব্দুল করিম নিজ স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ওই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ বছর কারাগারে সাজা ভোগ করেন। দীর্ঘ কারাবাসের পর গত কয়েক বছর আগে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ঘটনাটি বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন