
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৪৬তম থেকে ৫৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে হলের কমনরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নবীন হিসেবে বরণ করে নেওয়া হয়। শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে তাদের হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা। পরিচিতি পর্ব, কুশল বিনিময় ও স্মৃতিচারণে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকপ্রশাসন বিভাগ (৪৬ ব্যাচ) ও শহীদ রফিক জব্বার হলের সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সাব-এডিটর রাসেল ওসমান; Shakib Agrotech Ltd. এর কর্ণধার সাকিব হাসান; মেহেদী হাসান ইতু; নূর মোহাম্মদ এবং মো. আশরাফুল ইসলাম সোহানসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে রাসেল ওসমান বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষ থেকেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। যে খাতে কাজ করতে চায়, সে অনুযায়ী একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমিতি, জুডো বা অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু পুনর্মিলনী নয়, আমাদের মধ্যে সম্পর্ক, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ। নতুনদের স্বাগত জানাতে এবং পুরোনো স্মৃতি ভাগাভাগি করতে এমন আয়োজন সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে সাকিব হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। তখন থেকেই আমি কাজ শুরু করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ ব্যবসা সেক্টরে আমি একটা অবস্থা তৈরী করতে পেরেছি। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কোন পরিকল্পনা থাকলে সেটার জন্যও প্রচেষ্টা অব্যহত রাখা। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা সেক্টরে নিজেদের অবস্থান তৈরী করতে পারবে। এরকম আয়োজন আমাদের সাবেক ও বর্তমানদের মধ্যে সম্পর্ককে আরো বেশি ঘনিষ্ঠ করবে। এই ধারা অব্যহত থাকবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, “আমার কাছে এই আয়োজন শুধু নবীনবরণ বা পুনর্মিলনী নয়, বরং একটি পরিবারের মিলনমেলা। ৪৬তম থেকে ৫৫তম আবর্তনের সবাইকে একসঙ্গে দেখে খুব ভালো লেগেছে। সিনিয়রদের আন্তরিকতা, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই সবাই একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। আড্ডা, গল্প, উপহার গ্রহণ ও একসঙ্গে নৈশভোজ—সব মিলিয়ে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। পরে সবাই একসঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন