
বান্দরবান শহরের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। টানা দুই দিন ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন।
দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় গতকাল রাত থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্রুত পানি নেমে গেছে। যেসব এলাকায় কয়েক দিন আগেও বুকসমান পানি ছিল, সেসব স্থান এখন প্রায় পানিশূন্য।
সোমবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, কাশেমপাড়া, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, ক্যচিংঘাটা ও বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য জলাবদ্ধতা থাকলেও পায়ে হেঁটে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে।
দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কারের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছেন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ধীরে ধীরে কর্মস্থলেও ফিরতে শুরু করেছেন।
আর্মিপাড়ার বাসিন্দা রুমা বেগম বলেন, “ভোররাত তিনটার দিকে পানি কমতে শুরু করে। এখন পানি নেই বললেই চলে। তবে ঘরের ভেতর প্রচুর কাদা জমে আছে। সকাল থেকে পরিষ্কার করছি, সারাদিন লেগে যাবে।”
কাশেমপাড়ার ব্যবসায়ী কালাম হাওলাদার বলেন, “পাঁচ দিন পানিবন্দী ছিলাম। পাশের একটি চারতলা ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলাম। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় দোকানের কোনো মালামাল বের করতে পারিনি। সারারাত ধরে দোকান পরিষ্কার করছি। সবকিছু স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন লাগবে।”
উজানিপাড়ার বাসিন্দা উসাংমা মারমা বলেন, “গতকাল থেকে বাড়ি পরিষ্কার করছি। কাঠের ঘর হওয়ায় সারারাত ঘুমাতে পারিনি। আজ রাস্তার ওপর রাখা জিনিসপত্র আবার ঘরে তুলব।”
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সড়কেও যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে এখনো সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে পাহাড়ধসের কারণে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচির সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে চাঁদের গাড়িতে চলাচল করছেন।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক এস. এম. মঞ্জুরুল হক বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। দুপুরের মধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে। অনেক পরিবার ঘরে ফিরলেও তারা এখনো ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। রান্না করার মতো পরিস্থিতি না থাকায় তাদের জন্য দুপুর ও রাতে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
মন্তব্য করুন