
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে প্ররোচিত করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে টাকা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ (ইমার্জেন্সি) কেন্দ্র করে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি দালালচক্র নিয়মিত সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন কৌশলে রোগী ও তাদের স্বজনদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তে নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের বিনিময়ে রোগী পাঠিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয় এই চক্র।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালদের কারণে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসহায় ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই দালালদের প্ররোচনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে হাসপাতাল চত্বরে রোগীদের ব্যক্তিগত মালামাল চুরির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা রোগী ও তাদের স্বজনদের মানিব্যাগ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির অভাবেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।
দালালচক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। দালালচক্র এখনও আগের মতোই বিভিন্ন কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় সচেতন নাগরিক, রোগী ও ভুক্তভোগীরা হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে কঠোর নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দালাল ও চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রোগীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের পরিবেশ দালাল ও অপরাধমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
মন্তব্য করুন