
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতনাখালি এলাকায় নদীভাঙন কবলিত চরে দীর্ঘদিন ধরে মরা কাঁকড়া ফেলার কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ না করা হলে এলাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগব্যাধি ও মহামারির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাঁতনাখালি গ্রামের নদীভাঙন এলাকায় কয়েকটি কাঁকড়া হ্যাচারির মরা কাঁকড়া ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি সেখানে পোকামাকড়েরও উপদ্রব দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেকুল গাজী জানান, হ্যাচারির মালিকরা নিয়মিতভাবে মরা কাঁকড়া নদীভাঙন এলাকায় ফেলছেন। ফলে দুর্গন্ধে নদীপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ওয়াপদা বেড়িবাঁধ দিয়ে চলাচলের সময় নাকে কাপড় না দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় খাবার গ্রহণ করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে হ্যাচারি মালিকদের নিষেধ করলে তারা উল্টো স্থানীয়দের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, একাধিকবার মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে না ফেলার অনুরোধ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। নদীতে বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ হলেও বিষয়টি দেখেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি শাহিন আলম বলেন, হ্যাচারির মরা কাঁকড়া নির্দিষ্ট নিয়মে মাটিতে পুঁতে ফেলার কথা। কিন্তু তা না করে উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে দাঁতনাখালি এলাকার হ্যাচারি মালিক জুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার হ্যাচারির মরা কাঁকড়া নদীর পাড়ে ফেলা হয় না। বরং মরা কাঁকড়া না ফেলার জন্য আমি সেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম, যা দুর্বৃত্তরা ছিঁড়ে ফেলেছে। এলাকার কিছু ক্ষুদ্র হ্যাচারি ব্যবসায়ী তাদের ঘেরের মরা কাঁকড়া সেখানে ফেলতে পারে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মরা কাঁকড়ার স্তুপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন