
সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার দাবিতে সাতক্ষীরায় গণ-মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান সড়কের সামনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সচেতনতামূলক এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কার্যকর ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায় এবং সেই জমা পানিতে ময়লা-আবর্জনা ভেসে মারাত্মক দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। শহরে বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা কিংবা আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় নাগরিকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এর নাগরিক সেবার মান অত্যন্ত হতাশাজনক, যা নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমান এই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির দ্রুত সংস্কার করা না হলে শহরের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এভাবে চলতে থাকলে সাতক্ষীরা শহর অচিরেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বক্তারা অবিলম্বে শহরে বর্জ্য ফেলার সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য জোর দাবি জানান।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক নেতা সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট বিপ্লব হোসেন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য হৃদয় মণ্ডল, ইমতি জামিল ও নুরজাহান খাতুন।
কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা সাতক্ষীরাকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন