
বিশ্বকাপ ফুটবল—পৃথিবীর বুকে এক আদিম আর অকৃত্রিম আবেগের নাম। প্রতি চার বছর পর পর এই একটি গোলকধাঁধায় বন্দি হয় কোটি কোটি প্রাণ। তবে এবারের উন্মাদনাটা একটু ভিন্ন, একটু বেশিই রাজকীয়। কারণ, ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো একটি দেশে নয়, বরং উত্তর আমেরিকার তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আঙিনায় বসছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।
আজ ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আসতেকা’ স্টেডিয়ামে রেফারি বাঁশি ফুঁকতেই শুরু হবে বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্য। ৩৯ দিনের অবিরাম যুদ্ধ শেষে আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ববাসী পাবে তাদের নতুন ফুটবল সম্রাটকে।
যদি ভাবেন এবারের বিশ্বকাপ আগের মতোই, তবে ভূল ভাবছেন। ২০২৬ সালের এই আসর ভাঙতে চলেছে অতীতের সব চেনা রেকর্ড।
চেনা ৩২ দলের চিরন্তন ফরম্যাট এখন অতীত। ফুটবলের বিশ্বায়নে এবার অংশ নিচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দেশ।
দল বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে লড়াইয়ের দিনও। মাঠের যুদ্ধ এবার দীর্ঘায়িত হবে ৩৪ দিন থেকে ৩৯ দিনে, আর মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৪টিতে! অর্থাৎ, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য টানা দেড় মাস নির্ভেজাল বিনোদনের প্যাকেজ।
১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে দলগুলো। প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল তো বটেই, সাথে ভাগ্য খুলবে সেরা ৮টি ‘তৃতীয় স্থান’ অধিকারী দলেরও। তারা সবাই মিলে পা রাখবে একদম নতুন ‘রাউন্ড অব ৩২’ (নকআউট) পর্বে। ফাইনাল জিততে হলে এবার চ্যাম্পিয়ন দলকে খেলতে হবে মোট ৮টি ম্যাচ!
যুক্তরাষ্ট্রের ঝাঁ-চকচকে আধুনিকতা, মেক্সিকোর ফুটবল ঐতিহ্য আর কানাডার শান্ত প্রকৃতি—এই তিনের মেলবন্ধন দেখা যাবে ১৬টি চোখ ধাঁধানো স্টেডিয়ামে।
মেক্সিকো সিটি-র ‘আসতেকা স্টেডিয়াম’ ফুটবল দুনিয়ায় এক জীবন্ত রূপকথা। পেলে (১৯৭০) আর ম্যারাডোনা (১৯৮৬)—ফুটবলের দুই ঈশ্বরের বিশ্বজয়ের সাক্ষী এই মাঠ। এবার বিশ্বের প্রথম ভেন্যু হিসেবে এটি পেতে যাচ্ছে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের বিরল গৌরব।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম কিংবা নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রযুক্তি ও বিশালতা দর্শকদের চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। অন্যদিকে কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে স্বাগত জানাবে ফুটবল বিশ্বকাপকে।
উদ্বোধনী ও হাইভোল্টেজ ম্যাচের সময়সূচি (বাংলাদেশ সময়):
বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের জন্য বরাবরের মতোই অপেক্ষা করছে ‘রাত জাগা রাত’। দূরপ্রাচ্যের সাথে সময়ের ব্যবধানের কারণে বেশির ভাগ ম্যাচই দেখতে হবে মাঝরাত, ভোর কিংবা সাঝ সকালে। দেখে নেওয়া যাক শুরুর দিকের কয়েকটি ব্লকব্লাস্টার ম্যাচের সূচি:
গ্রুপ মুখোমুখি লড়াই ভেন্যু বাংলাদেশ সময়—
১১ জুন (রাত) গ্রুপ ‘A’ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (উদ্বোধনী) , মেক্সিকো সিটি, রাত ১:০০ টা।
১২ জুন (রাত) গ্রুপ ‘B’ কানাডা বনাম বসনিয়া, টরন্টো, রাত ১:০০ টা।
১৩ জুন (সকাল) গ্রুপ ‘D’ যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে, লস অ্যাঞ্জেলেস, সকাল ৭:০০ টা।
১৪ জুন (ভোর) গ্রুপ ‘C’ ব্রাজিল বনাম মরক্কো, নিউ ইয়র্ক, ভোর ৪:০০ টা।
১৭ জুন (সকাল) গ্রুপ ‘J’ আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া, কানসাস সিটি, সকাল ৭:০০ টা।
ইতিমধ্যেই উত্তর আমেরিকা জুড়ে টিকিটের জন্য হাহাকার আর কোটি কোটি মানুষের আগমন শুরু হয়ে গেছে। লাতিন সাম্বার ছন্দ, ইউরোপীয় গতি আর আফ্রিকান শক্তির সাথে এবার যোগ হচ্ছে এশিয়ার নতুন চমক। ৪৮টি স্বপ্ন নিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শেষ হাসি হাসবে কে? মেসি-নেইমারদের উত্তরসূরিরা নাকি নতুন কোনো পরাশক্তি?
পর্দায় চোখ রাখুন, কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসবের বাঁশি বাজতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা!
ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট, বিশ্লেষণ এবং পর্দার পেছনের গল্প জানতে চোখ রাখুন আমাদের প্রেস ডেস্ক নিউজ পোর্টালে। আপনার প্রিয় দল কোনটি? কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আমাদের প্রেস ডেস্ক ফেসবুক পেজে!
মন্তব্য করুন