
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ঘিরে যখন ঘরে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত মানুষ, ঠিক তখনই বগুড়ার বিভিন্ন সড়ক ও দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা, নৌকাডুবি, ঝড় ও অগ্নিকাণ্ডে নারী, শিশু ও একই পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের আনন্দের বদলে অনেক পরিবারে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা।
সবশেষ সোমবার (২৫ মে) সকালে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আনিছুর রহমান ও তার চার বছরের ছোট্ট মেয়ে। মোটরসাইকেলে পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তারা। ঘটনাস্থলেই বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন শিশুটির মা। ঈদের আগে এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
একই দিন বিকেলে কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন জেসমিন খাতুন ও তার মেয়ে তনু আক্তার। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। মুহূর্তেই নিভে যায় মা-মেয়ের জীবন। আহত হন অটোরিকশাচালকও। স্থানীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে ২১ মে ধুনট উপজেলার বানিয়াজান এলাকায় যমুনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ভুট্টাক্ষেত থেকে ফেরার পথে নারী শ্রমিক বহনকারী নৌকাটি ডুবে গেলে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আঙ্গুরি খাতুন নামে এক নারী নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলেও ঈদের আগে এই নৌদুর্ঘটনা পরিবার ও এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করে।
১০ মে আদমদীঘির বড় আখিড়া রেলগেট এলাকায় ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান এনজিও কর্মকর্তা আলমগীর কবির। মোটরসাইকেলে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
শুধু সড়কেই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগেও প্রাণ গেছে কয়েকজনের। গাবতলীতে ঝড়ের সময় আম কুড়াতে গিয়ে গাছচাপায় মারা যান আমিনা বেগম। ঈদের আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ঘর থেকে বের হলেও আর ফেরা হয়নি তার। পরিবারের সদস্যদের চোখে এখন শুধুই স্বজন হারানোর কষ্ট।
অন্যদিকে, ২২ মে কাহালু উপজেলার শিকড় এলাকায় রহস্যজনক আগুনে পুড়ে মারা যান সোনিয়া খাতুন। পরে দগ্ধ তার শিশুকন্যারও মৃত্যু হয়। ঈদের আগে মা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়াও শেরপুর, সারিয়াকান্দি ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনে নানা দুর্ঘটনা ও সহিংস ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গেছে। ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, বেপরোয়া গতি, অসচেতন চলাচল ও বৈরী আবহাওয়াকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতাল, বাড়িঘর আর গ্রামের পথঘাট। যে ঘরে ঈদের আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন শোকের ছায়া। ঈদের নতুন পোশাক, কোরবানির প্রস্তুতি আর ঘরে ফেরার আনন্দ ছাপিয়ে অনেক পরিবারে এখন শুধুই প্রিয় মানুষ হারানোর দীর্ঘশ্বাস।
মন্তব্য করুন