
নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রাম থেকে নার্গিস আক্তার মুক্তা (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে চাটখিল থানা পুলিশ। তিনি চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি এবং মামলার বাদী ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার সাবেক স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সি.আর. মামলা নং-২৬১/২৫ এর ভিত্তিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা চাটখিল থানায় পৌঁছানোর পর রবিবার (২৪ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে সোমবার (২৫ মে) দুপুরে তাকে নোয়াখালী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া জানান, ২০০৯ সালের ৪ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই জমজ কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ১৩ বছরের সংসার জীবনের পর তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে অন্য এক বিবাহিত ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তাদের তালাক সম্পন্ন হয়। তালাকের সময় সাবেক স্ত্রী তার পাওনা বুঝে নেন এবং সন্তানদের দায়িত্ব বাদীর কাছেই থাকে।
বাদীর অভিযোগ, তালাকের পরও নার্গিস আক্তার মুক্তা তার মা ও দ্বিতীয় স্বামীর প্ররোচনায় পুনরায় টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে কৌশলে বোরকা পরা এক নারীকে দিয়ে চট্টগ্রামের একটি স্কুল থেকে সন্তানদের অপহরণের চেষ্টা করা হয়। ‘দাদী মারা গেছে’—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিশুদের স্কুল থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝতে পেরে তা ব্যর্থ করে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ব্যবহার করে সন্তানদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইভটিজিং এবং অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাদীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসবের প্রতিবাদ করায় তার ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় এবং তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এক ঘটনায় তার হাত ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নোমান দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ঘটনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে আদালত নার্গিস আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন