
দেশজুড়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন, বাণিজ্যিক চিকিৎসা এবং দালালচক্রের নানা অভিযোগের মধ্যে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সিজার নয়—এই নীতিকে সামনে রেখে হাসপাতালটি ধারাবাহিকভাবে নরমাল ডেলিভারিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলেই ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে এখানে ২ হাজার ২০১টি নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ সময়ে মোট ২ হাজার ৪১৪টি ডেলিভারির মধ্যে মাত্র ২১৩টি সিজারিয়ান অপারেশন করতে হয়েছে। বাকি সবই হয়েছে স্বাভাবিকভাবে। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হওয়ার অনুমোদন পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৪১০টি, ২০২৩ সালে ৪৮১টি, ২০২৪ সালে ৫২১টি এবং ২০২৫ সালে ৫২১টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৬৮টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাগত প্রয়োজনে ৬০টি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে।
২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাকের উদ্যোগে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের সমন্বয়ে নরমাল ডেলিভারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত কাউন্সেলিং, প্রসূতি দাওয়াত কার্ড বিতরণ এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারির সেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন নারী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। মাত্র ১২০ টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিনামূল্যে ওষুধ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েরা সুস্থ নবজাতক নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সেবাগ্রহীতারা চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকতা এবং সেবার মানের প্রশংসা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোকছেদা খাতুন বলেন, “নরমাল ডেলিভারিকে হ্যাঁ, সিজারকে না”—এই বার্তা নিয়ে তারা কাজ করছেন। নিয়মিত কাউন্সেলিং ও দক্ষ মিডওয়াইফদের নিবিড় তত্ত্বাবধানের ফলে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির শামিম বলেন, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সিজার না করে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত করাই হাসপাতালের লক্ষ্য। এতে মা ও নবজাতক নিরাপদ থাকেন এবং পরিবার অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যয় থেকেও রক্ষা পায়।
মন্তব্য করুন