
বগুড়ার সান্তাহারে রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার ব্যবহার করে প্রায় দেড় শতাধিক দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ বাণিজ্য, অথচ সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের অদূরে রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের দুই পাশের ফাঁকা সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য টিনশেড ও অস্থায়ী দোকানঘর।
এসব দোকানের কোনোটিরই নেই রেলওয়ের বৈধ অনুমোদন বা লিজ। তারপরও রাত নামলেই সারি সারি দোকানে জ্বলে ওঠে বৈদ্যুতিক বাতি, চলে ফ্যান, ফ্রিজ, টিভিসহ নানা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো এলাকায় মাত্র তিনটি মিটার বসিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে শতাধিক দোকানে পার্শ্ব সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মিটারগুলোও কোনো বৈধ স্থাপনায় নয়, বরং একটি দোকানের পেছনের দেয়ালে অস্থায়ীভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিনিময়ে প্রতিটি দোকান থেকে মাসিক বা দৈনিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতি বাতির জন্য প্রায় ২০ টাকা করে আদায় করা হয়। এই পুরো অবৈধ সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে কথিত রেলগেইট ব্যবসায়ী সমিতির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের ছত্রছায়াতেই বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও দখল বাণিজ্য।
বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নিজস্ব মিটার থেকে অন্যত্র সংযোগ দিতে পারেন না। নতুন সংযোগের জন্য গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র, সঠিক ঠিকানা, বৈধ দখল ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার কাগজপত্র বাধ্যতামূলক। এছাড়া বিতরণ কোম্পানির নির্ধারিত সাপ্লাই কোড মেনে সংযোগ নিতে হয়। কিন্তু সান্তাহারের এই এলাকায় সেই নিয়মের কোনো বালাই নেই বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সান্তাহার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. উজ্জ্বল আলী বলেন, একটি মিটার থেকে একাধিক দোকানে পার্শ্ব সংযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মোছা. খাদিজা খাতুন জানান, রেললাইনের পাশের জায়গায় যেকোনো ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। এর আগেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছিল। সাময়িকভাবে দোকান সরানো হলেও কিছুদিন পর আবারও দখল করে দোকান বসানো হয়।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ দোকানগুলোতে যেন কোনো ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়া হয়, সে জন্য নেসকো বরাবর একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। আবারও আবেদন জানানো হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনায় কীভাবে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ সংযোগ চলতে পারে? কারা এই অবৈধ সংযোগের পেছনে জড়িত? আর প্রশাসনের চোখের সামনেই কেন থামছে না এই দখল ও বিদ্যুৎ বাণিজ্য এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
মন্তব্য করুন