
বগুড়ার সদর উপজেলায় লোকলজ্জার ভয়ে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির মা ও তার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মা ও তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পরপরই নবজাতককে ধারালো ব্লেড দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপনে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকার নিপার বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চলতি বছরের ১৫ রমজানে বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুর আলমের ছেলে দুলালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিপা।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, এমন নির্মম ঘটনা এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন