
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সংগঠনটি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য ও চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়া হবে। দলটির মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে নারী প্রার্থী বাছাই ও চূড়ান্ত করার কাজ শেষ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের অধিকাংশ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত সততা, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান জানান, তার উপজেলাসহ জেলার প্রায় সব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন বলেন, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিয়নের প্রার্থীও নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ইউনিয়নেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের প্রস্তুতি আগে থেকেই চলছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর সেই কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী নির্ধারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অন্যদিকে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের প্রার্থী বাছাইয়ে আঞ্চলিক দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের প্রধান নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ব্যাপকভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে নারী প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত নিয়েই এসব প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। তার দাবি, কিছু এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধের কারণে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে ২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। দলটির দাবি অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ৬৮টি আসনে তারা জয় পায়। জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক ও গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াত।
মন্তব্য করুন