
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মো. সেলিম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক গণপিটুনি নয়, বরং পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের খতিরহাট এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যেই এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সেলিমের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারের কিছু অভিযোগ ছিল। ঈদের দিন সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সরওয়ার নামের এক যুবক এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে ‘চোর-ডাকাত’ এসেছে বলে এলাকায় শোরগোল তোলা হয়। এরপর কয়েকশ উত্তেজিত মানুষ খতিরহাট এলাকায় সেলিমের ভাড়া বাসাটি ঘেরাও করে এবং সেলিমসহ তার সহযোগীদের ওপর চড়াও হয়ে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমের মৃত্যু হয়। আহত অন্য দুজন— মো. মামুন (৩২) ও সৈয়দ হোসেন (৪০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল খায়ের বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইসমাঈল প্রকাশ ইমনকে (২৮) গ্রেফতার করেছে।
ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহতের বাবা আবুল খায়ের বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহত সেলিমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অন্য কোনো মামলা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন