
গত ২৪ আগস্ট “প্রেস ডেস্ক বিডি” ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে “ধুনটে বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ২টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে নিমগাছী ইউনিয়নের বাবুর বাজার এলাকার ‘মন স্পেশাল কেক’ প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাবুর বাজার এলাকায় ‘মেসার্স মন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টোরি’ নামের কারখানাটি প্রায় তিন মাস ধরে কোনো অনুমোদন ছাড়াই চালাচ্ছিলেন শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. মুজরুল ইসলাম (মনজু)। নিমগাছী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা রফিকুল ইসলামের জায়গা ভাড়া নিয়ে চলা এই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল কেক-বিস্কুট, যা শুধু আশপাশের এলাকা নয়, বাজারের বিভিন্ন দোকানেও সরবরাহ হচ্ছিল। প্রতিবেদনে কারখানার মালিক মুজরুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তার প্রতিষ্ঠানের কোনো লাইসেন্স নেই।
সেই সংবাদের সূত্র ধরে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে সরেজমিনে গিয়ে অভিযানকারী দল দেখতে পায়, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই কেক উৎপাদন করা হচ্ছে, আর পণ্যের লেবেলে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখেও রয়েছে গরমিল। এসব অপরাধে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে জরিমানা করার পাশাপাশি ধ্বংস করা হয় প্রায় ২০০টি ফাটা ডিম।
বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. শাহানূর হোসেন খান, পরিদর্শক (মেট) মো. আসাদুজ্জামান এবং আনসার সদস্যরা।
অভিযান প্রসঙ্গে মো. শাহানূর হোসেন খান বলেন, সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই আমরা সরেজমিন যাই। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, ভাঙা ডিমের ব্যবহার, উৎপাদনের তারিখে গরমিল এবং খোলা পরিবেশে খামির তৈরিসহ বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া বেকারি চালানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের যৌথ অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক ও বেকারি পণ্য তৈরির প্রমাণ পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে, খাদ্যের মান নিয়ে উপজেলা প্রশাসন সবসময়ই সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ছয় দিনের মাথায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ভোক্তারা। তবে তাদের প্রশ্ন, শুধু জরিমানা করেই কি থেমে যাবে নজরদারি, নাকি লাইসেন্স ছাড়া কারখানাটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তদারকি অব্যাহত থাকবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন