
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বন্দর পরিচালনার ইতিহাসে একক কোনো মাসে এর আগে কখনো এত বিপুল পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হয়নি। সদ্য বিদায়ী মে (২০২৬) মাসে টার্মিনালটিতে রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা বোর্ড এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) যৌথ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এই বিশাল সাফল্য এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী মাসে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৮১ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানির চিত্র ও পুরনো রেকর্ড ভাঙার গল্প
মে মাসের মোট হ্যান্ডলিংকৃত কনটেইনারের একটি বড় অংশ ছিল রপ্তানি পণ্য।
বিস্তারিত হিসাবে দেখা যায়:
আমদানিকৃত কনটেইনার: ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউস।
রপ্তানিকৃত কনটেইনার: ৬৬,৬৪৫ টিইইউস।
এর আগে এনসিটির সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ডটি হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। সেই সময় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল, যা এবারের মে মাসের সাফল্যের মাধ্যমে ভেঙে গেল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই এনসিটি টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে সিডিডিএল। এরপর থেকেই মূলত এই টার্মিনালের পুরো কার্যক্রমে গতিশীলতা ও দৃশ্যমান প্রবৃদ্ধি আসতে শুরু করে।
জাহাজ নোঙর করার পয়েন্ট থেকে শুরু করে পণ্য খালাস, ডেলিভারি, অ্যাপ্রাইজ পয়েন্ট, সিএন্ডএফ শেড এবং টার্মিনালের প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে সিডিডিএলের কর্মীবাহিনী অত্যন্ত সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে কনটেইনার লোড-আনলোড প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজতর হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সিডিডিএল-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্ষমতা যেমন বাড়াচ্ছে, ঠিক তেমনি জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের চাকাকে আরও বেগবান করছে।
মন্তব্য করুন