
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে বিভাগীয় শহর রংপুরে সরাসরি ‘মেইল বাস সার্ভিস’ বন্ধ করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে ভূরুঙ্গামারী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গোলচত্বরে ‘উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর ২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলছিল।
আন্দোলনের কারণে সকাল থেকে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির কোনো বাস ভূরুঙ্গামারী থেকে ছেড়ে যায়নি, যার ফলে ঢাকাগামী যাত্রীসহ স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জানুয়ারি ভূরুঙ্গামারী থেকে সরাসরি রংপুর মেইল বাস সার্ভিসটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি আজ সোমবার (১ জুন) থেকে এই সেবাটি আবারও বন্ধ করে দেয়। এর আগে, গত ৩০ মে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয়রা একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সেখান থেকে মেইল বাস সার্ভিস চালু রাখার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে— সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির কোনো বাস ভূরুঙ্গামারীতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই দাবি উপেক্ষা করে আজ থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জনতা।
আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ও ডাকসুর সাবেক ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা ভূরুঙ্গামারীবাসী সরাসরি রংপুর মেইল বাস সার্ভিস বন্ধ না করে তা চালু রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি আমাদের অনুরোধ রাখেনি। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”
এদিকে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ থাকায় ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলোও ভূরুঙ্গামারী ছাড়তে পারেনি। ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কর্মী সাহিদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এসএন পরিবহনের বাসে সোমবার সকালে ঢাকায় যাওয়ার টিকিট কেটেছিলাম। সকাল সাড়ে সাতটায় কাউন্টারে আসার পর জানানো হয় বাস যাবে না এবং ভাড়ার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এখন কীভাবে ঢাকায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।” এ বিষয়ে এসএন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, আন্দোলনের কারণে আজ সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে তাদের কোনো বাস ছেড়ে যায়নি এবং যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উত্তর ধরলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বশির আহমেদ জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য কুড়িগ্রাম মটর মালিক সমিতির সাথে বৈঠক করতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর ধরলা মটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা স্থানীয়দের এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের সাথে বৈঠকের উদ্দেশ্যে শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আমরা কুড়িগ্রাম যাচ্ছি।”
মন্তব্য করুন