
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার তিন বছর বয়সী শিশু বখতিয়ার সজলের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চোখের ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির ইতোমধ্যে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরও দুটি অস্ত্রোপচার করা গেলে তার চোখ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুটির ডাকনাম আবু বক্কর। সে নন্দীগ্রাম উপজেলার সিধইল গ্রামের উত্তর সুখানগাড়ী এলাকার দিনমজুর বাদশা মিয়া ও সুর্য খাতুন দম্পতির ছেলে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের তথ্য জানান বিএনপি মিডিয়া সেলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক কালাম আজাদ। সরকারপ্রধান মানবিক বিবেচনায় শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছে তার দরিদ্র পরিবার। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু সুস্থ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্বজনেরা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুটির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার বাবা একজন দিনমজুর কৃষক। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতা চেয়ে পরিবারের আকুতি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি শিশুটির চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবার-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন শিশুটির নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সংগঠনটির সদস্যসচিব মুকছেদুল মোমিন মিথুনের তত্ত্বাবধানে বগুড়ায় দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদুজ্জামান পিয়াস। শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা।
শিশুটির পরিবার জানায়, ২০২৩ সালের ২৮ জুন বগুড়ার একটি ক্লিনিকে নন্দীগ্রামের দিনমজুর বাদশা মিয়ার স্ত্রী সুর্য খাতুন একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির একটি চোখ অন্ধ এবং ঠোঁট কাটা। সে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে পারে না। জন্মের পর থেকেই মুখ দিয়ে শ্বাস নিচ্ছে। শিশুটি দুটি নামে পরিচিত। বাবা-মা তার নাম রেখেছেন বখতিয়ার সজল। অন্যদিকে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাকে আবু বক্কর নামে ডাকেন।
পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুটির চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছেন তার স্বজনেরা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে দিনমজুর বাবার পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিশুটির বাবা বাদশা মিয়া বলেন, অভাবের সংসারে খুব কষ্টে দিন যায়। থাকার মতো বাড়ি ছাড়া কোনো সম্পত্তি নেই। প্রথম পুত্রের বয়স ১৩ বছর। দ্বিতীয় পুত্র জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়ে হাসপাতালে ঘুরেছি। বর্তমানে চিকিৎসার খরচ বহন করা অসম্ভব। পত্রিকা আর ফেসবুক আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। শুনেছি, চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশে নেতারা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসক দেখিয়েছেন।
মন্তব্য করুন