
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে সম্ভাব্য বিএসএফের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় জনসাধারণ যৌথভাবে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার প্রায় ৪৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ভারতীয় অংশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বিজিবি সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পাহারা ও নজরদারিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের সক্রিয় সহযোগিতার ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় জনগণ বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গ্রামবাসীরা পালাক্রমে টহলে অংশ নিচ্ছেন এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, দৌলতপুর সীমান্তে সার্বক্ষণিক টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ বর্তমানে বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সহযোগিতা সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও বেগবান করেছে। দেশের সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন