
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আশায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই ভারতের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক ন্যায্য হতে হবে বলে জানালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের এনসিপি অস্থায়ী কার্যালয়ে “জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)” এর উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন— আর্মি প্রধান ইতোমধ্যেই বক্তব্য দিয়েছে যে আমরা ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছি। সে জায়গা থেকে বলবো, আমাদের যে সকল দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজপথে থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিয়েছেন আমরা তাদেরকে সালাম জানাই, স্যালুট জানাই। আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে যে নিরাপত্তা দিয়েছেন এজন্য আপনাদের বিশেষ ধন্যবাদ।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু নদী, কাঁটাতার, প্রকৃতি এগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে দিতে হয়। তারা যদি আন্তর্জাতিক নিয়ম না মানে তাহলে আমরা বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেবো না। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আশায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই ভারতের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক ন্যায্য হতে হবে। আমরা অলরেডি আমাদের সীমান্ত পাহারাই যারা রয়েছে তাদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য সীমান্ত ভিজিট করেছি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিজিবির প্রতি কোন সঠিক নির্দেশনা নেই। তাদের বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে সকল সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জোর দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের সকল পর্যায়ে মাদক নির্মূল করতে হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত সহ সকল ধর্মীয় গুরুদের এগিয়ে আসতে হবে।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ঝিনাইদহের ঘটনায় অভিযোগ তুলে বলেন— ঝিনাইদহে আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের উপর ইট-পাটকেল, ডিম নিক্ষেপ করে। পরে তারা হকিস্টিক দিয়ে আমাদের নেতা কর্মীদের মারধর করে। আমরা ধারণা করেছিলাম আমাদের উপরে যারা হামলা করেছিল তারা ছিল ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল। কিন্তু তাদের সাথে আরেকটি দল যুক্ত ছিল সেটি হল পুলিশ দল। আমাদেরকে হামলা করার পর আমাদের নেতাকর্মীর নামে মামলা দেয়া হয়েছে এবং আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অথচ আমরা হামলার শিকার হওয়ার পর আইনের আশ্রয় চাইলেও আমাদেরকে আইনের আশ্রয় দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, আমাদের হাসনাত একটি কথা বলেছিল যে আপনারা কাদেরকে ভয় দেখান। তাই আজকে বলছি, আপনারা আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমাদেরকে মেরে ফেললে মেরে ফেলে দিন। আমাদেরকে মারলে আপনারাও কিন্তু বাঁচবেন না। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে ঝিনাইদহের হামলায় যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা।
মন্তব্য করুন