
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৌলতপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
পরে সকাল ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শহিদ সরকার মঙ্গল এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শের আলী সবুজ। এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং পুলিশ-প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাসহ দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। সেই সংকটময় সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে হলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বা অবদান উপেক্ষা করে স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা সম্ভব নয়।
আলোচনা সভায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সভা শেষে বক্তারা দলের সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন