
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ইউনিয়নের প্রান্নাথপুর-পানলা গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছে।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) পানলা গ্রামের বাসিন্দারা ইউএনওর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, গ্রামের ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি একজন ঠিকাদার পেয়েছিলেন। পরে প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।
তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ভালো মানের উপকরণ ব্যবহারের কথা থাকলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে তৃতীয় শ্রেণির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজের শুরু থেকেই প্যানেল চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
অভিযোগের পর সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্মাণ কাজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী ও সান্তাহার ইউনিয়ন বিএনপির এক কার্যকরী সদস্য বলেন, দুই লাখ টাকা বরাদ্দের কাজটিতে সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি বলেন, “ব্যবহৃত ইট খুবই নিম্নমানের। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
প্রান্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ও যুবদল কর্মী ওমর ফারুক বলেন, “নাজিম উদ্দীন তৃতীয় শ্রেণির ইট দিয়ে নিম্নমানের কাজ করেছেন। স্থানীয় সরকারের কোনো জনপ্রতিনিধি ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ কিনে নিজে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার বলেন, উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কেল্লাপাড়া-পানলা ঈদগাহের পূর্ব পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দীন দেখভাল করে সম্পন্ন করেন।
তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিনি কাজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পন্ন কাজটি ভেঙ্গে না ফেলে আর সামান্য যে অংশের কাজ বাকি আছে শাস্তি হিসেবে চেয়ারম্যানকে সেই কাজটি ভালো মানের উপকরণ দিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা খাতুন।
উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুতই প্যানেল চেয়ারম্যান অসমাপ্ত কাজটি সম্পন্ন করবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। উপজেলাজুড়ে সব উন্নয়নকাজ যথাযথ মান বজায় রেখে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন