
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সাংবাদিক সুলতান মাহমুদকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া এবং সর্বশেষ অপহরণ ও হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের চুনিয়াখাড়া গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে সুলতান মাহমুদ (৩৩) পেশায় একজন সংবাদকর্মী। তিনি রাজধানী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার (সিরাজগঞ্জ) এবং সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। একই ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট গ্রামের পলান শেখের ছেলে নাসির উদ্দিন (৩৫) পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে নাসির (৩৫) ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাসির উদ্দিন ৩নং ধুবিল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বেড়ান এবং বিভিন্ন জায়গায় তিনি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিএনপির কোন পদে নেই বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সুলতান মাহমুদকে অপহরণ ও হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেয়। একই রাতে রাত ৮টার দিকে সলঙ্গা বাজারের মাদ্রাসা মোড়ে অবস্থানকালে নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগীরা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় একজনকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসার পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে সুলতান মাহমুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর নাসির ও তার সহযোগীদের অব্যাহত হুমকিতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ। নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত রোববার সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলী বলেন, সাংবাদিক সুলতান মাহমুদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন