
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির (জবিকস) নির্বাচন ২০২৬ ভোটগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে সব পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলেও কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তাদের।
গত রোববার (১০ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক (ফান্ড ও বাজেট) খন্দকার হাবিবুর রহমান সভাপতি এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল হালিম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া অন্যান্য পদেও একক প্রার্থী থাকায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী শুরুতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও পরবর্তীতে নানা চাপের মুখে সরে দাঁড়ান বলে কর্মকর্তা মহলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম একটা উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। আগের কমিটিগুলোও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু এবার শুরু থেকেই এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়, যাতে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না আসে। কয়েকজন নির্বাচন করার আগ্রহ দেখালেও পরে তারা সরে দাঁড়ান। এমনভাবে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে যে, আমরা নির্বাচন করলে পরে প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগতভাবে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব সংগঠনেই ভোট হয়। কর্মকর্তা সমিতিও তার বাইরে ছিল না। কিন্তু এবার যেভাবে বিনা ভোটে পুরো কমিটি গঠন হলো, সেটি অনেক কর্মকর্তার মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। আমরা সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন আশা করেছিলাম। যারা এবার কমিটিতে আছে তারা প্রত্যেকেই আগে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছিলো। নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু বাস্তবে সেই পরিবেশ ছিল না।”
কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন রাখতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে ‘সমঝোতার’ বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেক কর্মকর্তা প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে সাহস পাননি। কর্মকর্তা সমাজের একটি অংশের মধ্যে ভীতি ও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবনির্বাচিত সভাপতি খন্দকার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি সবসময় ন্যায়ের পথে চলায় বিশ্বাসী। ন্যায়ের পথে সেই ২০ বছর যাবৎ আছি। আল্লাহ আরো যতদিন বাঁচিয়ে রাখে ততদিন পর্যন্ত ন্যায়ের পথে থাকবো। আমি যতটুকু দেখছি, এখানে প্রায় ২৫০ জন কর্মকর্তা আছেন, তারা আমাকে ভালোবাসেন এবং আমার প্রতি তাদের বিশ্বাস আছে। আমি যেদিন ফরম তুলেছি, এরপরও আরো দুই-তিন দিন সময় ছিল। আমাদের প্যানেল ফরম তোলার পর অনেকেই বলেছেন, ‘আপনি যেহেতু সভাপতি নির্বাচন করবেন, আমরা আর নির্বাচন করবো না। আপনার মাধ্যমেই প্রতিনিধিত্ব চাই।’ সবার সমর্থন নিয়েই আমরা কাজ করছি।”
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা সভার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করি। প্রথমে কর্মকর্তা তালিকা চাওয়া হয়, পরে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ও তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা ও প্রত্যাহারের সুযোগ ছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসে বাধার মুখে পড়তেন বা অভিযোগ দিতেন, তাহলে বিষয়টি আলোচনায় আসত। কিন্তু আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। কেউ ফরম কিনতে এসে নিরুৎসাহিত হয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন হিসেবে আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। বাধা, নিষেধাজ্ঞা বা অভিযোগসংক্রান্ত কোনো ঘটনা আমাদের কাছে আসেনি।”
মন্তব্য করুন