
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে জানাজায় অংশ নিতে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন ছেলে। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনিও। পরে বাবা ও ছেলের জানাজা একসঙ্গে শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের লালনগর এলাকার জসিম উদ্দিন (৮০) ও তার ছেলে নুর আলম জিকু (৪৫)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান জসিম উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মাগুরা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ছেলে নুর আলম জিকু। তার সঙ্গে ছিলেন ভায়রা ভাই।
রাত ৯টার দিকে তারা মোটরসাইকেলে করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের স্বস্তিপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান জিকু। পরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা ভায়রা ভাইও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুর আলম জিকুর মরদেহ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মহিদুল ইসলাম জানান, ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নুর আলম জিকুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন জিকু। কিন্তু বাবার কাছে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে লালনগর কবরস্থানে বাবা ও ছেলের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।
বাবার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ছেলেরও লাশ হয়ে বাড়ি ফেরার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কবরস্থান প্রাঙ্গণ।
মন্তব্য করুন