
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও প্রাণকেন্দ্র বগুড়া। নবগঠিত এই সিটির প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এম আর ইসলাম স্বাধীন, যা নগরবাসীর মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
নিয়োগ পাওয়ার পরদিনই মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়, যা শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
এর আগে গত রবিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসিচব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বগুড়া শহরের মালতীনগর এলাকার বাসিন্দা এম আর ইসলাম স্বাধীনকে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
প্রজ্ঞাপন জারির পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত পত্রের মাধ্যমে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ করেন এম আর ইসলাম স্বাধীন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি নবগঠিত এই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি গেজেটে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং এর সঙ্গে সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রসারিত ও পার্শ্ববর্তী এলাকা (যেমন – ফুলবাড়ী, নিশিন্দারা, কাটনারপাড়া, সুত্রাপুর, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, মালতীনগর, ফুলদিঘী ও বেতগাড়ী) সমন্বয়ে মোট ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে এই নতুন সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়েছে।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানাই। সব মানুষকে সাথে নিয়ে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনকে নতুনভাবে সাজাবো।’
বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা এবং প্রথম প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পুরো শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে এম আর ইসলাম স্বাধীনকে এখন নবগঠিত এই সিটি কর্পোরেশনকে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরীতে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বগুড়াকে তিনি একটি বাসযোগ্য ও আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন – এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় সচেতন মহলের।
মন্তব্য করুন