
পাবনার সাঁথিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ফেসবুক স্টোরিতে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হওয়া এ ঘটনায় অস্ত্রটির প্রকৃত পরিচয় ও বৈধতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মুজাহিদ ফকির। তিনি সাঁথিয়া পৌর এনসিপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডির স্টোরিতে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এরই মধ্যে কয়েকজন ব্যবহারকারী ভিডিওটি সংরক্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মেঝেতে রাখা একটি অস্ত্র একজন ব্যক্তিকে হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুখমণ্ডল বা শারীরিক পরিচয় স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রটির প্রকৃতি এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিমের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দায়িত্বে থাকা কারও এমন আচরণ করা উচিত নয় এবং বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনার পর মুজাহিদ ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, এর আগেও মুজাহিদ ফকিরের ফেসবুকে অস্ত্রসদৃশ একটি ছবি প্রকাশের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে জানা যায়।
তবে এবারের ভিডিওতে প্রদর্শিত বস্তুটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, নাকি অন্য কিছু—তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি। অস্ত্রটি আসল হলে এর বৈধতা এবং ঘটনাটির পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন