
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আল বেরুনী হলে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সামষ্টিক ভোজ ও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টায় হলের ডাইনিং কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির দাওয়াহ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক সাফায়েত মীর। এছাড়া শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
নবীনদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে ফেরদৌস আল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু আনন্দ-উপভোগের নয়, বরং নিজেকে গড়ে তোলার সর্বোত্তম সময়। তাই প্রথম বর্ষ থেকেই একাডেমিক পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শুধু ক্লাসে সীমাবদ্ধ না থেকে ক্যাম্পাস, এর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা, যোগাযোগ দক্ষতাসহ বিভিন্ন পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করে এমন কোনো সম্পর্ক বা কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়, যা ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে বাধা সৃষ্টি করে।
এসময় দাওয়াহ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক সাফায়েত মীর বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম, রাজনৈতিক জবরদস্তি ও ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার ক্ষেত্র হলেও স্বাধীনতার চর্চা নীতি-নৈতিকতা ও আত্মসংযমের মধ্যেই হওয়া উচিত।
তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো বন্ধু নির্বাচন, একে অপরের ইতিবাচক গুণাবলি গ্রহণ এবং বিপথগামী হওয়া থেকে সহপাঠীদের রক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের লাখো শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। তাই নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে নিজেকে সৎ, দক্ষ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
আলোচনা শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সামষ্টিক ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য করুন