
বাংলাদেশের গ্রামীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাচীনতম ও অন্যতম প্রধান ভিত্তি ‘গ্রাম পুলিশ’। ১৮৭০ সালের চৌকিদারী আইন (The Village Chaukidari Act, 1870) এর মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলে যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল, তা আজকের ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম পুলিশের রূপ নিয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে এই গ্রাম পুলিশ সদস্যরা মূল বাহিনী তথা বাংলাদেশ পুলিশকে মাঠপর্যায়ে তথ্য দিয়ে এবং অপরাধ দমনে ছায়ার মতো সহযোগিতা করে আসছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনেও গ্রামীণ পর্যায়ে তারা অন্যতম বড় শক্তির উৎস।
মাঠপর্যায়ের এই নিভৃতচারী কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন ও উৎসাহ বাড়াতে নওগাঁ জেলা পুলিশ এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চালু করেছে। জেলা পুলিশে বর্তমান পুলিশ সুপারের (এসপি) যোগদানের পর থেকেই ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি মাসে একজন করে গ্রাম পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করার প্রথা শুরু হয়।
তারই ধারাবাহিকতায়, গত মে/২০২৬ মাসের ক্রাইম কনফারেন্সে ভালো কাজের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করেছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার গ্রাম পুলিশ জনাব মনসুর আলী। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ এবং গ্রাম পুলিশের সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা ও তথ্যের আদান-প্রদানের একটি পরিপূরক বন্ধন। গ্রাম পুলিশ সরাসরি জেলা পুলিশের অংশ না হলেও, গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি আনাচ-কানাচের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য সবার আগে তারাই থানা পুলিশকে পৌঁছে দেয়। তাদের এই অবদানকে সম্মানিত করতেই এই পুরস্কারের ব্যবস্থা।
এই উদ্যোগের ফলে জেলা জুড়ে কর্মরত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাঝে কাজের প্রতি উদ্দীপনা ও দায়বদ্ধতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
মন্তব্য করুন